হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে অসুস্থ এক শিশুর শরীরের তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে মাপার অনুরোধকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসকের কথিত আচরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্বশীলতা, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে আচরণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির স্বজনরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে ওষুধ লিখে দেন। তবে ওষুধ দেওয়ার আগে শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিশুটির সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি।
তার দাবি, তিনি চিকিৎসকের কাছে শুধু অনুরোধ করেছিলেন—শিশুটির জ্বর কত ডিগ্রি, তা থার্মোমিটার দিয়ে মেপে দেখা হোক। কিন্তু এ বিষয়কে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসকের পক্ষ থেকে “স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে আনেন”—এমন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের প্রশ্ন, একজন রোগীর স্বজন চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি সাধারণ বিষয়ে জানতে চাইলে তার সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণ কী?
সরকারি হাসপাতাল সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। সেখানে কোনো রোগী বা তার স্বজন চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা প্রয়োজনের কথা জানালে তাদের যথাযথ তথ্য দেওয়া এবং সম্মানজনক আচরণ করা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে শিশুর জ্বর নির্ণয়ে তাপমাত্রা মাপার প্রয়োজনীয়তা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে ঘটনার মূল বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ কয়েকজন কর্তব্যরত চিকিৎসক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো একটি ভিডিওকে একমাত্র ভিত্তি না করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, হাসপাতালের নথিপত্র, কর্তব্যরত চিকিৎসক, শিশুটির স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। একই সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পেশাগত শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে সেটিও স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি উঠেছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে একজন রোগী বা তার স্বজন চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি সাধারণ প্রশ্ন করলে কেন এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, ঘটনাটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, পেশাগত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো রোগী বা স্বজন যাতে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অযাচিত হয়রানি বা অসম্মানজনক আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
