নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
নির্মাণকাজের চুক্তিতে যুক্ত হচ্ছে গ্যারান্টি ক্লজ, সড়ক ও অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন শর্ত যুক্ত করছে সরকার। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে সড়কের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিজ খরচে তা মেরামত করতে হবে। এ লক্ষ্যে নির্মাণকাজের চুক্তিতে নির্দিষ্ট নিয়ম ও গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে এর স্থায়িত্ব ও গুণগত মানকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শুধু নির্মাণকাজ সম্পন্ন করাই নয়, বরং নির্মিত অবকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখা এবং কাজের মান নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য ঠিকাদারি চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও গ্যারান্টি-সংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে।
নতুন এ শর্তের আওতায় নির্মাণকাজের নির্ধারিত গ্যারান্টি সময়ের মধ্যে সড়কের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তা মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। অর্থাৎ, কাজ শেষ করে ঠিকাদারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজে ত্রুটি দেখা দিলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তা সংশোধন করতে হবে।
নিম্নমানের নির্মাণকাজ ঠেকাতে উদ্যোগ
দেশে সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের যাতায়াত সহজ করা, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার লক্ষ্য থাকে। কিন্তু নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনদুর্ভোগ বাড়ে। পাশাপাশি একই সড়ক বারবার সংস্কার করতে গিয়ে সরকারি অর্থের অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তিন বছরের গ্যারান্টি-সংক্রান্ত শর্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নির্মাণকাজে ত্রুটি কমানো এবং কাজের স্থায়িত্ব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতের প্রত্যাশা
সড়ক নির্মাণের পর দ্রুত ভেঙে যাওয়া, পিচ উঠে যাওয়া কিংবা অন্যান্য ত্রুটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব সমস্যা প্রতিরোধে নির্মাণকাজের মান যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সরকারের নতুন উদ্যোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণের পাশাপাশি নির্মাণকাজের মান নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত কতটা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, ত্রুটি শনাক্তের প্রক্রিয়া কী হবে এবং দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে নেওয়া হবে, তার ওপর।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকির বক্তব্য অনুযায়ী, অবকাঠামো নির্মাণের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিয়ম ও গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর বিস্তারিত বাস্তবায়নবিধি, ত্রুটি নির্ধারণের পদ্ধতি এবং ব্যতিক্রমের বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে উদ্যোগটির প্রয়োগ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে।
সড়ক নির্মাণে শুধু অর্থ ব্যয় নয়, টেকসই কাজ নিশ্চিত করা এবং নির্মাণের পরও ঠিকাদারের দায়বদ্ধতা বজায় রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
