ঢাকা, ১ অক্টোবর ২০২৬:
নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ)-এর প্রথম পর্যায়ের প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিসিএসসহ কোনো সরকারি নিয়োগে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না। জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা। কারও রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, শুধুমাত্র সেই পরিচয়ের কারণে নিয়োগে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ)-এর নিয়োগ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই বিসিএসে পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬১১ জনকে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দিয়ে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফলে ৫৭ জনের নাম প্রথম প্রজ্ঞাপনে না থাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকৃতপক্ষে ৪৬ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিসিএস বা এ ধরনের সরকারি নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দেওয়াও নিয়োগপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রথম প্রজ্ঞাপনে কারও নাম না থাকলেই তাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমনটি মনে করার কারণ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই হতে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ধাপে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। এ বিসিএসের চাকরিতে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে এখনো সময় রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মাহুতির হুমকি দেওয়া এক প্রার্থীর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ওই প্রার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না—এমন ধারণা থেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে তাকে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতে দণ্ডের বিষয় থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তা বিবেচনায় আসতে পারে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে দণ্ড থাকলে এবং তা প্রত্যাহার বা আপিলে খালাস না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ভেরিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ। অতীতেও বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৯তম বিসিএসে প্রথম প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
