শায়েস্তানগরের আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারে বাঁচল মায়ের জীবন
বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসবকালীন জটিলতার ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যু, শায়েস্তানগরের আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারে বাঁচল মায়ের জীবন
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসবকালীন জটিলতার ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রসূতি মা সানজিদা আক্তার (২০)। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তবে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রসূতি মা সানজিদা আক্তারকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরিবার ও চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) প্রসববেদনা শুরু হলে সানজিদা আক্তারকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানো হয়। রাত গভীর হলেও প্রসব সম্পন্ন না হওয়ায় একপর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত সন্তান প্রসব করেন সানজিদা। এ সময় তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগীর অবস্থা বিবেচনায় পরিবারের সদস্যরা তাকে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান।
আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে ঘোষ ও ডা. আশিকুল মুহিত খানের নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, রোগীর জরায়ুতে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল এবং রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়েছে। পাশাপাশি ছয় ব্যাগ রক্তও প্রয়োজন হয়েছে।
অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের দাবি, দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা এবং অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের কারণে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একই সঙ্গে জরায়ুতে জটিল ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ায় প্রসূতির জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিকেলের পরই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে হাসপাতালেই প্রসব করানোর চেষ্টা চালানো হয়। ফলে মা ও সন্তান উভয়ের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আল ইনসাফ স্পেশালাইজড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে ঘোষ বলেন, রোগী অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, রোগীকে কেন এত দীর্ঘ সময় হাসপাতালে রাখা হয়েছিল এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত নবজাতকের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।