প্রথম প্রান্তিকে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫.৬ শতাংশ, বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ
অর্থনীতি ডেস্ক | দ্য ভয়েস অব হবিগঞ্জ
বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৬৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হওয়ায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক দায় সামাল দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। ঋণের আসল পরিশোধের পাশাপাশি সুদ পরিশোধেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।
ঋণ পরিশোধে বাড়ছে আর্থিক চাপ
অতীতের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া বিদেশি ঋণের দায় বর্তমান সময়েও পরিশোধ করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে নেওয়া ঋণের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হয়। ফলে নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান ঋণের দায় মেটানো সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প থেকে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কতটা বাড়ছে—এসব বিষয় নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে ঋণের অর্থের কার্যকর ব্যবহার, প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ
ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশকে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
তবে ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি মানেই সমপরিমাণ অর্থ ছাড় হওয়া নয়। প্রতিশ্রুত অর্থের কতটা বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে, কী শর্তে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং তা কতটা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে বিদেশি ঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ শক্তিশালী করা এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি যেসব প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোর ব্যয় ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি—দুটি বিষয়ই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক আর্থিক দায়ও আরও টেকসইভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
